শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
ইনানী সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু ইনানীতে ২ দিন ধরে জ্বলছে নলকূপ থেকে ওঠা গ্যাসের আগুন: ২২ কিলোমিটার এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন সাংবাদিক আবদুল আজিজের পিতার প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী আজ ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় নির্গমন গ্যাসের আগুন: আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ছেলের হাতে বাবা খুন ঘূর্ণিঝড় অর্ণবে রূপ নিয়েছে গভীর নিম্নচাপটি সেন্টমার্টিন ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খোলা প্রতিপক্ষ ফুটবলারের ওপর রাগ কমছে না নেইমারের, পাল্টা বক্তব্য নেস্তরের রামুর রশিদ নগর ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার: চুরির ৯৬ লাখ টাকা ভাগ নেওয়ার অভিযোগ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে নিম্নচাপটি, কবে কোথায় আঘাত

রামুতে দুইশ বছরের “আকাশ” হত্যার ঝুঁকিতে

ভয়েস নিউজ ডেস্ক:

আকাশছোঁয়া বিশাল গজারিগাছটির বয়স প্রায় ২১৭ বছর। উচ্চতা ৯২ ফুট। কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের দুর্গম করইল্যামুরা পাহাড়ের গজারিগাছটি এলাকার মানুষের কাছে ‘আকাশ’ নামে পরিচিত। সম্প্রতি পাহাড়ে গাছটির আশপাশের সীমানায় থাকা জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েকটি বসতবাড়ি। ফলে ঝুঁকিতে পড়েছে প্রাচীন মাতৃবৃক্ষটি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, বিষ প্রয়োগ করে গাছটিকে মেরে ফেলতে পারে ভূমিদস্যুরা। এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা গোলাম কাদের (৭৫) বলেন, ‘জন্মের পর থেকে গজারিগাছটি দেখে আসছি। আগে গাছটির আশপাশে আরও কয়েক শ গর্জনগাছ ছিল। সব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এখন এ গাছের দিকেও নজর পড়েছে দখলদারদের। বন বিভাগ কিংবা প্রশাসনের উচিত, দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে শতবর্ষী গজারিগাছটিকে রক্ষা করা।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, গাছটির সামনে বিশাল জায়গা দখল করে তৈরি হয়েছে পাঁচটির বেশি টিনের ঘর। সেখানে বসতি গড়েছে কয়েকটি পরিবার। আগে সড়ক থেকে সরাসরি গাছের গোড়ায় যেতে পারতেন মানুষ। সেই চলাচলের রাস্তাটিও বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আনোয়ার হোসেন সরকার বলেন, এত বড় গজারিগাছ দেশের অন্য কোথাও আছে কি না, তাঁর জানা নেই। দখলের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তিনি। নির্মিত ঘরবাড়ি দ্রুত সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা করতে স্থানীয় বনকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বনকর্মীরা পাহারা দিয়ে গাছটি বাঁচিয়ে রেখেছে বলে জানান তিনি।

গজারিগাছটির গোড়ার দিকে বেড় (প্রস্থ) ২৮ ফুট। গাছটি এখনো ফল দিচ্ছে। বীজ থেকে জন্ম নিচ্ছে নতুন চারা। গাছের নিচে পাথরের একটি ফলক লাগানো রয়েছে। এতে লেখা, ‘আমায় বাঁচতে দিন। লোভাতুর মানুষ দেখলেই ভয়ে আমার অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। কুঠারাঘাতে, করাত দিয়ে কিংবা বিষ প্রয়োগে আমার অস্তিত্ব বিপন্ন করবেন না।’ বন বিভাগের সহযোগিতায় ২০০৬ সালে ফলকটি স্থাপন করে কক্সবাজার জেলা পরিষদ। দর্শনার্থীদের বসার জন্য গাছের ছায়ায় পাথরের গোলাকৃতি বেঞ্চ তৈরি করা হয়।

রামুর ‘আকাশ’ বৃক্ষটি নিয়ে প্রথম আলো পত্রিকায় একাধিক সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। একটি চক্র বিষ দিয়ে গাছটি কেটে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত করছে, এমন তথ্য প্রকাশিত হলে গাছটি রক্ষায় তৎপর হয় পুলিশ।

রামুর মানুষ রাতদিন পাহারা বসিয়ে আকাশকে রক্ষার চেষ্টা করছেন। এলাকাবাসী বলেন, ১২ বছর আগেও এই করইল্যামুরা এলাকায় কয়েক হাজার গজারি ও গর্জনগাছ ছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র গাছগুলো কাটে। তারা এখন শতবর্ষী গজারিগাছ আকাশকেও হত্যার চক্রান্ত করছে। আগে প্রতিদিন পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন গাছটি দেখতে যেতেন।

গাছের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখতেন। এখন কেউ যাচ্ছেন না। গাছটি রক্ষা পেলে এলাকায় পর্যটক আসবে। তখন পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হবে। ফলে দুর্গম ঈদগড় সড়কে গণডাকাতি, লুটপাট ও অপহরণ বন্ধ হবে।

কক্সবাজার শহর থেকে আকাশকে দেখতে আসেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নেকমের উপপ্রকল্প পরিচালক শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এত লম্বা গাছ তাঁর চোখে দ্বিতীয়টি পড়েনি। গাছের আশপাশের সরকারি জমি দখল করে ঘরবাড়ি নির্মিত হচ্ছে। হয়তো একদিন দেখা যাবে, গাছটিও লোকচক্ষুর অন্তরালে হারিয়ে যাবে। গাছটি যদি সংরক্ষণ করা যায়, এখানে পর্যটকের সমাগম ঘটবে। তখন এটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হবে।

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION